বাঙ্গালি নারী পুরুষের তথাকথিত ‘ইজ্জত’ কনসেপ্ট

আমাদের মেয়েদের একটা মাইন্ডসেট হল, সেক্স করা মানে ইজ্জৎ দিয়ে দেয়া, তার মানে হল আমি যেহেতু তাহার সাথে বিছানা শেয়ার করিয়াছি, সেহেতু তাকে ইজ্জৎ দিয়ে দিয়েছি! আর যেহেতু ইজ্জৎ দিয়ে ফেলেছি সেহেতু সে আমাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হিসেবে ট্রিট করবে! সে আজীবন আমার ফেরীল্যান্ড এর রাজপুত্র হয়ে থাকবে, আমার সাথে শোয়ার জন্য রোজ এক বার করে কুর্নিশ স্বরূপ কৃতজ্ঞতা জানাবে!

অথচ দুজনার সম্মতিতে সম্পর্কটা হয়েছে। ছেলেও মেয়েটার মত বেড শেয়ার কয়েছে, সেও ঐ সময়টা একই রকম উপভোগ করেছে যেটা মেয়েটা করেছে। সেই হিসেবে ছেলেরও বলা উচিৎ, আজ থেকে আমার খাওয়া থেকে হাগু পর্যন্ত দায়িত্ব তোমার।

অথচ শরীর হল একটা টুলস, বেঁচে থাকার জন্য মানুষ এই টুলসটা ইউজ করে। মানুষ খাবার খায় কারন শরীরের শক্তি লাগে। মানুষ সেক্স করে তার মানসিক আনন্দ আর বংশ বৃদ্ধির জন্য। এটা কে কেউ শুধুই আনন্দের অংশ হিসেবে নিতে পারে।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কেউ যদি শুধু শারীরিক প্রয়োজনেই কাউকে ব্যবহার করে তবে কি তা অন্যায় না ?
উত্তর হল, যদি না জানিয়ে অসম্মতিতে করে তবে অন্যায়। শুধু সেক্স চাইলে সেটা অবশ্যই বলতে হবে এবং দুজনেই এই বিষয়ে সম্মত হতে হবে।

কিন্তু ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ টাইপ কথা ফালতু কথা। আপনার যদি বিয়ের পরেই সেক্স করতে হবে টাইপ চিন্তা থাকে, তবে বিয়ের আগে সেক্স করবেন না। আর যদি করেন তবে নিজ ইচ্ছায়, নিজ সম্মতিতে করবেন। সেক্স বিয়ের নিশ্চয়তা না , এটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

যৌনতা খুব স্বাভাবিক বিষয়। নিঃশ্বাস নেবার মত স্বাভাবিক। পৃথিবীর এমন কোন ছেলে নাই যে জীবন কোন ন্যুড মেয়ের ছবি দেখে নাই, পৃথিবীর এমন কোন মেয়ে নাই যে জানে না ছেলেদের শরীর দেখতে কেমন। তাই কেউ কার সামনে শরীর উন্মুক্ত করলেই আলাদীনের দৈত্যের মত আশ্চর্য কিছু বের হবে না।

তবে প্রেমের চোখ দিয়ে দেখলে বড়জোর নিজেদের জনী ব্রো কিংবা সিস্টার মিয়াঁ খালিফা মনে হতে পারে । কিন্তু ইহার সাথে ইজ্জৎ আদান প্রদানের কোন বিষয় নাই ।

সেক্স করলেই কেউ কার জীবন সুখী করা , আজীবন সম্পর্ক রাখার গ্যারান্টি নেয় না। নিজে সুখী করার দায়িত্ব নিজের , বড় জোর দুজন মিলে সুখী হবার দয়াটা ভাগ করে নেয়া যায় । প্রত্যেক মানুষ তার ইচ্ছা ও প্রাধান্য ও সম্মতিক্রমে যৌন সঙ্গী বেছে নিতে পারে। বিয়ের মাধ্যমে এক সাথে বাচ্চা জন্ম ও লালন পালনের কমিটমেন্ট ও করতে পারে, আবার ভবিষ্যতে সম্পর্ক ছিন্নও হতে পারে, কিন্তু যৌন সম্পর্ক মানে ইজ্জৎ দিয়ে দেয়া , নেয়া না।

শরীর এ ইজ্জৎ থাকে না, ইজ্জৎ থাকে মানুষের কর্মে, তার শিক্ষায় , তার চিন্তায় , তার সভ্য আচরণে। এই কারনে কোন রেইপ ডিক্টিমের ইজ্জৎ যায় না, যায় রেপিস্ট লোকটার। এই কারনে ৭১ এ আমাদের কোন নারীর ইজ্জৎ যায় নি গেছে যারা তাদের ধর্ষণ কয়েছে তাদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: