শীলার চোখে বাবা হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা প্রথম আলোতে একটা সাক্ষাতকারে তার পিতা সম্পর্কে কয়েকটা মূল্যায়ন করেছেন, যে কেউ বিস্মিত হতে পারেন। একটা প্রশ্নের উত্তর যেমন ছিল তার অহমিকা নিয়ে, বাইরে থেকে আমার কাছে অবশ্য এটাকে হুমায়ূন আহমেদের অসহিষ্ণুতা বলে মনে হয়েছে, হুমায়ূনের এই অসহিষ্ণুতা তার সাহিত্যের ওপর সত্যিই ছাপ ফেলেছিলো:

“অবশ্যই এসেছিল। তবে সেটা অনেক পরে। সম্ভবত তাঁর বন্ধুমহল পরিবর্তন হওয়ার পরে। ছয়-সাত বছর বয়স থেকেই দেখে আসছি যে বাবা খুব জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর জীবনযাত্রা খুব সাধারণ ছিল। তিনি সব সময় আমাদের বলতেন অহংকার না করতে। বলতেন, আমার মেয়ে হিসেবে কখনো কোনো সুবিধা নেবে না। বাবার সঙ্গে নাটকের শুটিংয়ের সময়ে বাবা আমার জন্য আলাদা কিছু করতেন না। সবাই যখন খাচ্ছে, তখন যদি আমি খাবার নিই তবে খাবার পাব, না হলে নয়। সব সময় বলতেন, তোমার প্রধান পরিচয় যেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের মেয়ে না হয়।

তবে বাবা শেষের দিকে আর এমন ছিলেন না। বাবার প্রথম দিকে যে বন্ধুরা ছিলেন, তাঁরা তাঁর সমালোচনা করতেন, নানা বিষয়ে তর্ক করতেন। কিন্তু পরের দিকে যাঁরা তাঁর বন্ধু হলেন, তাঁদের বেশির ভাগের মনোভাব এমন ছিল, ‘স্যার, আপনি যা করবেন সেটাই ঠিক।’ তাই তখন বাবাকে তাঁর কাজ বা জীবনযাপন নিয়ে কিছু বললে তিনি বলতেন, ‘তোমরাই শুধু এমন বলছ। আর সবাই তো বলছে এটা ঠিক আছে।’ তো বাবার মধ্যে এই পরিবর্তনটুকু এসেছিল।”

আর এটাও মূল্যবান একটা পর্যবেক্ষণ, সাহিত্যের ওপর বাণিজ্যের চাপ নিয়ে:
“একটা সময়ের পর থেকে তাঁর লেখাতে পুনরাবৃত্তি। বইমেলার সময় তাঁকে প্রকাশকদের অনেক চাপের মধ্যে লিখতে হতো। বই বের হবে, তাই তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো বই লিখে শেষ করতে হবে। এই চাপ মাথায় নিয়ে লিখতেন বলে বাবার শেষের দিকের বইগুলোতে লেখকসুলভ যত্নের অনেক অভাব আছে। তাঁর প্রথম দিকের বইগুলো আর পরে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার সময়কার বইগুলোর মধ্যে পার্থক্যটা টের পাওয়া যায়।”

হূমায়ুন ৭০ ও ৮০ দশকের প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্যিক, যদিও ৯০ দশকে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গতম পর্যায়ে উঠেছিল। বস্তুত হুমায়ূন সম্পর্কে এই দেশে পর্যালোচনামূলক কাজ এখন প্রায় সমাজদ্রোহিতা তুল্য। কিন্তু জনপ্রিয়তা থিথু হয়ে আসতে থাকলে তার সত্যিকারের আলোচনা, তার ব্যক্তিত্বের ধরণ, বাজারের চাপ তার সাহিত্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল, সেই আলাপগুলো আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে থাকবে। এখানেই উল্লেখ করা ভালো, বরং ৮০ দশকেই এবং ৯০ সূচনাতে হূমায়ুন সম্পর্কে কিছু পর্যালোচনামূলক আলাপ হয়েছিল। কিন্তু এরপর তাকে নিয়ে অপ্রিয় যে কোন আলাপ, যে কোন ইঙ্গিত ভীতিকর রকম কঠিন হয়ে উঠতে থাকে। ভবিষ্যতের যে কোন শুভদিনের জন্য এই আলাপটা তোলা থাকলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: