‘দহন’ যা দিয়েছে বছর শেষে

বাঙালীর শেষ পাতে সবসময় মিষ্টি দেয়া হয়। এটা আমাদের দেশের ঐতিহ্য। সিনেমার ক্ষেত্রেও এই ঐতিহ্য কিভাবে ভাঙবে বলেন তাই বুঝি পরিচালক রায়হান রাফি, অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও প্রযোজক আব্দুল আজিজ এই বছরের সিনেমার শেষ পাতে মিষ্টান্ন দিলেন দর্শকদের।

সমসাময়িক দেশের গল্প নিয়ে সিনেমা বানানোর সাহস দেখিয়ে কি দুর্দান্ত সিনেমাটাই না বানালেন সবাই মিলে। আর কথায় আছে ভাগ্য সাহসীদের সাথে থাকে। এরকম একটা গল্প নিয়ে সিনেমা বানানো যায় যেখানে নেই কোন নায়ক, নেই কোন নায়িকা কিংবা কোন ভিলেন! তাহলে কি আছে এই সিনেমায়? হুম, এই সিনেমার নায়ক, নায়িকা, ভিলেন সবই হলও এই সিনেমার গল্প। সিনেমার একটা গল্পের ভিতর আবার অনেকগুলো গল্প। প্রত্যেকটা গল্পই আবার একই সূত্রে গাঁথা। আর এই যে গল্প গুলো নিয়ে একই সূত্রে গাঁথার কাজটি সুচারুভাবে করে দেখিয়েছেন পরিচালক। প্রথম সিনেমায় আমাদের দেশের গ্রাম্য পটভূমি তে প্রেমের কাহিনী রচনা করে তার মধ্যেও মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করে যাওয়া পরিচালক বেঁছে নিলেন এইবার সমসাময়িক সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও এর সাথে জড়িয়ে থাকা নানা সাধারণ মানুষের গল্প বলার মাধ্যমে। সব শেষে এখানেও সমাজ কে দেখিয়ে দিয়েছেন তার অন্ধকার দিক। সিনেমা কে সমাজের দর্পণ বলা হয় তার যথার্থ ব্যাবহার করে গেছেন পরিচালক তার প্রথম দুইটা সিনেমা তেই।

ছোট পর্দার স্টার, সুদর্শন ছেলে সিয়াম আহমেদ বড় পর্দায় অভিষেক করলেন এইতো কিছুদিন আগে পোরামন ২ নামের সিনেমা দিয়ে। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রথম সিনেমায় ভালো অভিনয় করে যাওয়া ছেলেটা দ্বিতীয় সিনেমায় গ্রে শেডের ক্যারেক্টার বেঁছে নিলেন? স্বভাবতই অনেকেরই ভ্রু জোড়া কিছুটা কুঁচকে গিয়েছিলো। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আবির্ভাব, আউটলুক কিংবা ক্রেজেও রোমান্টিক হিসেবেই যদি নিজেকে চাইতেন প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন কিন্তু তিনি খুব সম্ভবত শুধু নায়ক হিসেবেই থাকতে চান নি, তিনি হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। আর তার কি দুর্দান্ত অভিনয় দহন সিনেমায়! কে বলবে এইটা তার দ্বিতীয় সিনেমা!? এতো ফ্লুয়েন্ট অভিনয় করে গেলেন যে অভিনয় দেখতে দেখতে কখন যে মুখ হা হয়ে যাবে টেরই পাবেন না। এমন দুর্দান্ত অভিনয়ের পর পুরষ্কার হিসেবে কি ঘরে উঠবে তা জানি না তবে তিনি যে আমাদের দেশের নেক্সট সুপারস্টার হবেন কিংবা হয়ে যাচ্ছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। এতো ভালো অভিনয় করে নিজেকে একটা উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। যতটা উচ্চতায় তিনি তার অভিনয় দিয়ে দর্শকের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিলেন ভবিষ্যতের পথ টা খুব দ্রুতই কঠিন করে ফেললেন। তবে তার উপর ভরসা করাই যায় কারণ সিনেমা চয়েসের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে বিচক্ষণতা ও মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

প্রত্যেকটা সিনেমায়ই কিছু লিমিটেশন থাকবে। কারণ লিমিটেশন না থাকলে কলাকুশলীরা সিনেমা বানানো ছেড়ে দিবে। কারণ আপনি পারফেক্ট সিনেমা বানিয়ে ফেলেছেন, এরপর তাহলে আর কি বানাবেন?

শেষে শুধু বলবো এই বছরের সেরা সিনেমা কি এই প্রশ্ন করলে উত্তর আসবে ‘মাটির প্রজার দেশে’, কিন্তু যদি কমার্শিয়াল সেরা সিনেমা কি এবং এই বছরের সেরা দ্বিতীয় সিনেমা কি তাহলে উত্তর একটাই আর তা হল ‘দহন’।

দহন চলচিত্রের ট্রেলার দেখতে ক্লিক করুন এখানেঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: