হু.মু. এরশাদ যখন হাসপাতালে

জাপা প্রধান হু মু এরশাদ এর প্রচণ্ড বুকে ব্যথা, প্রথমে ভেবেছিল গ্যাস, দুটা এন্টাসিড মেরে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু রাতের নিয়মিত অধিবেশন রওশনের সাথে তর্কের মুহূর্তে টের পেলেন, কাহিনী ভাল না। ব্যথা উপর থেকে নিচে নামছে। গিরায় গিরায় , শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পরছে।
বুঝেই চিৎকার জুড়ে দিলেন,
-কে কোথায় আছিস আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যা ।
চিৎকার শুনে জাপার সদ্য মনোনয়ন প্রার্থী হিরো আলম ছুটে এল। কদম বুচি করবে নাকি সরাসরি চেটে দেবে, সেটা ভাবতে ভাবতে খানিক মাথা চুলকালো।
এদিকে এরশাদের অবস্থা করুন , প্রচুর চাপ। চিৎকার করে উঠলেন
-ওরে বেটা খাম্বার মত দাঁড়িয়ে থাকিস না , আমাকে হসপিটালে নে শিগগীর,
হিরো আলম ভাবল,
কিছু না বললে কেমন দেখায় ! তক্ষনি তার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল, ভাবল, এই সুযোগে স্যার এর প্রশংসা করা হবে আবার সান্ত্বনাও দেয়া হবে ।

-হে বীর্যবান , আপনি ধৈর্যবান খেতাবে খ্যাত নেতা , আজ এই কঠিন দিনে …
আরও কিছু বলার ইচ্ছা ছিল কিন্তু এরশাদ এর চিৎকারে সব বন্ধ হয়ে গেল,
-তোর ধৈর্যবান খেতাবের খ্যাতা পুড়ি , এক্ষনি হাসপাতালে নে, নইলে তোর মনোনয়ন আমি ইয়ে দিয়ে ভরে দেবো । শালা , টুট … টুট ।
স্যার এর এমন কদর্য ব্যবহারে কিঞ্চিৎ ব্যথিত হিরো, আর কথা না বারিয়ে, স্যার কে কাঁধে তুলে রওনা হল ।
অতঃপর হিরো আলমের কাঁধে ভর দিয়ে জাপা চলল হাসপাতালে। নামে হিরো হলে কি হবে এরশাদ কে কাঁধে নেয়া তো আর চাট্টিখানি কথা না!
বেচারা বহু কষ্টে যখন হাসপাতালে পৌছালো, তখন মধ্য রাত ।

ডাক্তার সাহেব সবে মাত্র শুয়েছেন। মাঝ রাতে নার্সের ফোনে তিনি মহা বিরক্ত কিন্তু সেটা তো আর প্রকাশ করা যায় না, তাই নার্স কে জিগ্যেস করলেন কি অবস্থা ডিটেইল বল ।
নার্স বলল স্যার, হু মু এরশাদ খাবি খাওয়া মাছের মত লাফাচ্ছেন আর চরম চ্যাঁচামেচি করছেন। মনে হয় টিকবে না ।
ডাক্তার সাহেব নার্স কে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
– মোবাইলটা স্পিকারে দাও।
নার্স তাই করল ।
মিনিট পাঁচেক ধরে ডাক্তার, হু মু এরশাদ এর চ্যাঁচামেচি শুনলেন । তারপর নার্স কে বললেন ,
– এরশাদের কানে কানে বল, মিডিয়া জেনে গেছে, নিউজ হবে, সকাল হলেই অফার শুরু হবে ইনশাল্লাহ ।
নার্স অবাক হলেও তাই করল , আর কি তাজ্জব বিষয় ! সঙ্গে সঙ্গে এরশাদের চিৎকার বন্ধ ! তিনি দিব্বি ভালো মানুষের মত হিরোর দিকে তাকিয়ে বললেন , আমার মোবাইলগুলাতে তে চার্জ দিয়ে রাখ, মিস যাবে না একটা কলও ।

নার্স এবার ডাক্তার কে প্রশ্ন করল , স্যার এটা কি ধরণের চিকিৎসা ছিল ?
ডাক্তার উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন,
– বলত, এরশাদ কি বলে চিৎকার করছিল ?
নার্স বলল,
– নির্বাচন এলো, নির্বাচন এলো, বলে চিৎকার করছিল ।
ডাক্তার বলল আর কিছু না ?
নার্স বলল হ্যাঁ আরও বলছিল, ‘দাও’ , নইলে আত্মহত্যা করব ।
ডাক্তার বলল, এখনো বোঝ নি ?
নার্স বলল, না , স্যার ।
ডাক্তার এবার হেসে বলল,
আমার ডাক্তারি বিদ্যা এই রোগের জন্য কাজে আসবে না । কয়দিনের মধ্যে দেখবা সে কোন একটা দলের সাথে জোট বাঁধবে । তখন তার রোগ পুরাপুরি ভালো হয়ে যাবে। দেখার বিষয়, কে কত দিলো ! আর সে কত তে সুস্থ হয়ে গেল !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: