তসলিমা নাসরিন এর নির্বাসন – দায় ও ক্ষতি কার?

আজ একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লিখতে চাই। এতে আমার কোন ব্যক্তিগত মত থাকছেনা। ব্যক্তিগত কোন ভালোলাগা থেকেও কিছু বলছি না, তবে দায় বোধ থেকে বলছি। এখন সময় যেহেতু পক্ষে না, সুবোধ পালাচ্ছে। কিন্তু বেঁচে থাকতে মেরুদণ্ড লাগে। মেরুদণ্ডের খোঁজ করছি তাই নিজের ভেতরে ও বাইরে। এদেশে মেরুদণ্ডওয়ালা লোকের সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে, লোকে কাকে দেখে নিজের মেরুদণ্ডকে শক্ত করবে?

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে আলোচিত বুদ্ধিজীবী/লেখক কে? বৈশ্বিক আলোকে বাংলাদেশের লেখক বলতে আসলে লোকে তসলিমা নাসরিনকেই চেনে। পুরো বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের পরই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি স্বীকৃ্তিপ্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যিক। ২০০৫ সালে তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী সাহিত্যিক এ পর্যন্ত যিনি নোবেল নমিনেশন পেয়েছিলেন। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল, সেটা সাহিত্যের জন্য নয়, শান্তির জন্য। পরের বছর সেটা ডক্টর ইউনুস পেয়ে যান। জনপ্রিয়তা নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা বলছিলাম। জনপ্রিয়তা বিচার করলে হয়তো ঠিক উল্টোটা দাঁড়াবে। সবচেয়ে অজনপ্রিয় লেখক হতে পারেন। কিন্তু সাহিত্য শুধু জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করেনা, নির্ভর করে লোকের মস্তিষ্ক-মননে প্রভাব বিস্তারের উপর।

তাঁকে চেনার অনেক কারণ আছে। কারণটা হল, তিনি উল্টো বলেন এবং সেটা ৭০-৮০ ভাগ সত্য। তাঁর সাহিত্য-সমালোচনার কোন যোগ্যতাই আমার নেই, কারণ প্রথমত আমি তাঁকে পড়িনি (শুধু ‘আমার মেয়েবেলা’,কিছু কবিতা আর বেশ কিছু কলাম ছাড়া)। পড়ে যতটা মনে হয়েছে সাহিত্যের নান্দনিকতার চেয়ে বিষয় তাঁর সাহিত্যে প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। তাঁর গদ্যের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কবিতার ভক্ত বেশি আমি। তাই তাঁর লেখার ভঙ্গী ভাল না লাগলেও যা বলেন সেসবের কতক মাথায় না নিয়ে পারা যায়না। তাঁকে পড়ার পর কেউ করেন প্রশংসা , কেউ দেন গালি, কিন্তু পড়েন সকলেই কম বেশি, একজন সাচ্চা লেখকের প্রকৃতি আসলে এমনই – You can hate or love him/her, but can’t deny him/her.

তসলিমা সম্পর্কে আমার কোন মোহ নেই, তবে তিনি যেভাবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে গেছেন এবং নিজের লেখার স্টাইল ও বিষয়ে অনড় থেকেছেন, সেই দৃঢ়তাকে শ্রদ্ধা না করে পারা যায়না। সব মানুষই খ্যাতি ও প্রশংসা চায়। কিন্তু স্বেচ্ছায় ঘৃণা গ্রহণ করে, সব তথাকথিত মানসিকতা ও নিন্দা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মাথা উঁচিয়ে নিজের খুশিতে বেঁচে থাকার সাহস সবার থাকেনা। একেই বলে মেরুদণ্ড ওয়ালা মানুষ। সরকার, দেশের মানুষ, প্রতিবেশী দেশের মানুষ এর অভিশাপ, ঘৃণা তাঁকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিতে বাধ্য করেছে। আমার কাছে যেটা মনে হয়, আদতে তিনি যা লিখেছেন, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁকে ইতিবাচক খ্যাতি পেতে সহায়তা করেছে অনেক বেশি। তাঁর মানে মৌলবাদীরাই তাঁকে বিখ্যাত করেছে।

তবে নির্বাসন আর নিষিদ্ধ হবার এই খেলা শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে। কাব্যগ্রন্থ  “আমার কিছু যায় আসে না” এবং পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে নারী অধিকার ও শোষণ বিষয়ে লেখায় “খবরের কাগজ” পত্রিকা অফিসে ভাংচুর চালায় মৌলবাদীরা। ১৯৯২ সালে তার বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন, চাঁছাছোলা কবিতা ও ৪ টি কম আলোচিত উপন্যাসকে পুঁজি করে আনন্দ পুরষ্কার পেয়ে যান তিনি। আনন্দ পুরষ্কার ভারতের আনন্দ পাবলিশার্স দেয়। উল্লেখ্য, এদের বড় বাজার বাংলাদেশ। তাঁরা চট করে বুঝে ফেলে তরুণ এই সাহিত্যিক অনেক সাহসী এবং একে আলোচনায় আনা দরকার। এতে তাদের অর্থনৈতিক লাভ আছে, আবার সামাজিক দায়ও মেটে। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে দেশে কোন পুরষ্কার বা স্বীকৃতি মেলার আগেই তিনি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি পেতে শুরু করেন। স্বভাবতই আনন্দ পুরষ্কার পাওয়ার মানে ইন্ডিয়ার বৃহৎ মিডিয়া জগতে পাত্তা পেয়ে যাওয়া। এবং সেই পথ ধরে ব্রিটেন এবং আমেরিকার মিডিয়া জগতে পা বাড়ানোর সাহস করা। তবে বাণিজ্য বলা হোক আর সেবামূলক কাজই হোক, প্রতিষ্ঠান তাকেই বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে যাকে নিয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো যায়। মানে বাণিজ্য বেসাতি এবং Corporate Social Responsibility দুই-ই যা serve করে। যাই বলা হোক না কেন, এর মানে এই নয়, এসব স্বীকৃতি পাবার যোগ্যতা এই তরুণ উদীয়মান বিদ্রোহী লেখকের নেই। কিন্তু World always serves things in worldly way, not any unearthly way।

পরের বছর তিনি ‘লজ্জা’ উপন্যাস লেখেন যেখানে একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের উপর নির্যাতনের কথা আছে। উল্লেখ্য ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার জেরে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তার গভীর প্রভাব ছিল সে উপন্যাসে। ফলশ্রুতিতে তিনি ১৯৯৩ এর বাংলা একাডেমী বই মেলায় মৌলবাদীদের দ্বারা শারীরিকভাবে নিগ্রহের শিকার হন। এমনকি মেলা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেলায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভেবে অবাক হচ্ছি, একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লেখককে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে উলটো এটা কিভাবে করে? এনিওয়ে, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এর পরে তিনি যতগুলো বই লিখেছেন (এর মধ্যে ৭টি ই আত্মজীবনী) প্রায় সবগুলোই বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্বভাবতই বই নিষিদ্ধ ঘোষণা মানে লেখকও অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ বা নির্বাসিত হয়ে যাওয়া, কারণ জীবনের নিরাপত্তা তখন হুমকির মুখে পরে। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো মৌলবাদী ইসলামিক সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রথমে যান, সুইডেন, এরপর জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল থাকার পর ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে সেটা অবৈধভাবে, কেননা, বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তাঁর মায়ের অসুস্থতার জন্য তিনি দেশে আসতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য মামলা পর্যন্ত রুজু করা হয়, একজন লেখক কি এমন জামিন অযোগ্য অপরাধ করতে পারেন, সে বিষয়ে কোন ধারণা নেই আমার। তবে বিষয়টি কেমন অদ্ভুত লাগে। কোন ধরণের অন্ধ ঘৃণা থেকে করা যায় এরকম মামলা সহজেই অনুমেয়। ১৯৯৯ তে তিনি চলে যেতে বাধ্য হন ফ্রান্সে। ২০০০ সালে তাঁর নিষিদ্ধ বই  “আমার মেয়েবেলা”  আবার আনন্দ পুরষ্কার পায়। আবার তাকে ফিরিয়া আনা হয় বিপুল সমারোহে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার বাজারে। আমার মনে আছে এই বইটা আমি পড়েছিলাম ২০০৬ সালে। আলমারির গোপন কোন থেকে একজন বের করে চুপি চুপি এই বইটি আমাকে পড়তে দিয়েছিল। কোন বই পড়ার নিষিদ্ধ আনন্দ থাকতে পারে, সেটা তখন প্রথম অনুভব করেছিলাম।

২০০০ সালে তিনি আনন্দ পুরষ্কারের পাশাপাশি ভারতের ভিসাও পেয়ে যান। তাঁর উপন্যাস ‘ক’ পশ্চিম বঙ্গে ‘দ্বিখণ্ডিত’ নামে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে। সেটি পর পর চার বছর সেখানে বেস্টসেলার ছিল। এবং সেখানকার ইসলামিক সংগঠনগুলো বাংলাদেশের চেয়ে আরও একধাপ এগিয়ে, তারা শুধু ফতোয়া জারি করেই ক্ষান্ত নয়, তসলিমার মাথার দাম ঘোষণা করে বসে। তাঁর এই বই ঘিরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় কলকাতায়। এমনকি চাপে পরে পশ্চিম বঙ্গ সরকার ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ করে। ২০০৫ পর্যন্ত সেটা নিষিদ্ধই ছিল। এরপরে তিনি বইটির কিছু অংশ বাদ দিতে বাধ্য হন। এতসব ঘটনায় তসলিমা আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। কারণ, ইন্ডিয়ার সকল প্রগতিশীল লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। লাখ লাখ শব্দ লেখা হয়েছিল তাঁর পক্ষে। মহাশ্বেতা দেবী, জয় গোস্বামী, অরুন্ধতী রায় এর মত লেখকরা তাঁর হয়ে কথা বলতে শুরু করেন। ২০০৮ পর্যন্ত তিনি ভারতের দিল্লিতে ছিলেন, এরপর ভারত ছাড়তেও বাধ্য হন। আবার ফিরে যান সুইডেন, এবং সেখানে কিছুকাল থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তাঁর ভরণপোষণ ও মুক্ত চিন্তা অনুশীলন চালিয়ে যাবার জন্য ২০১৫ সালে মার্কিন সরকার একটি ফান্ড তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। যেকেউ চাইলে সেখানে ডোনেট করতে পারে।

তবে একথা ঠিক, ২০০৮ সালে, ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি, তসলিমা নাসরিনের জ্যেষ্ঠ বন্ধু প্রণব মুখার্জী তাঁর জন্য অনেক করেছেন। তাঁর স্নেহ ছায়ায় তিনি দিল্লীর সেফ হাউজে নিরাপদে থাকতে পেরেছেন, নিজের মত লিখতে পেরেছেন। কিন্তু লেখালেখি আবার তাঁর শত্রু তৈরি করে ফেলে দ্রুত। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার ঠিক আগে প্রণবের সঙ্গে তাঁর আলোচনার রিপোর্টটি ছিল গল্পের মত। আউটলুকে প্রকাশিত সেই রিপোর্টটি যথেষ্ট হৃদয়গ্রাহী। রিপোর্ট: https://www.outlookindia.com/magazine/story/a-secret-sortie/236713

তাঁর এই রোলার কোস্টার, প্রেমে টাল মাতাল-নির্বাসিত-আলোচিত-সমালোচিত জীবন নিয়ে দুর্দান্ত একটি সিনেমা চাইলেই বানানো যায়। একজন স্পর্শকাতর মানুষ, মোটামুটি মানের লেখক, যে শুধু নিজের দেশে থাকতে চেয়েছিলেন, নিজের দেশে থাকতে না পেরে, প্রতিবেশী দেশের আধা পরিচিত শহরে থাকতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সে আশাও তাঁর পূরণ হল না। শুধু থাকতে চাইতে গিয়ে ফ্রান্সের সম্মানজনক সিমন দ্যা ব্যাভোয়ার পুরষ্কারও আনতে গেলেন না। ইয়োরোপের উন্নত জীবনকে কখনই বিলং করতে পারেননি তসলিমা। এটা অদ্ভুত, না, আসলে হয়তো অদ্ভুত না। সত্য। হোমলি ফিল করা একজন লেখকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুনীলের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছিল। তসলিমার পাওয়া বড় শাস্তি বোধহয় এটাই, কারণ তিনি নির্বাসিত সেই জায়গা থেকে যেখানে তিনি নিজেকে অনুভব করেন। কিন্তু তাঁর প্রতি অমানবিকতম ব্যাবহার করা হয়েছে, হচ্ছে নিঃসন্দেহে।

এর মধ্যে অন্যান্য সেলিব্রিটি লেখকদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য, তাঁর ঔদ্ধত্য এসব আসলে তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণ ও অন্যায়ের আফটার ইফেক্ট ছাড়া আর কিছুনা। এসব কিছু নিয়ে যারা তাঁকে দোষারোপের পরে দোষারোপ করেন, হয় তাদের নিজেদের চরিত্রেও ঝামেলা আছে, নয় গভীরতমজায়গা থেকে সার্বিকভাবে তসলিমার বিষয়টি কখনও ভেবে দেখেননি বলেই আমার মনে হয়।

শুধু লেখা ও কথা বলার জন্য একজন মানুষকে খুন করা বা করতে চাওয়া, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা দেশে ও বিদেশে, এসব যে কত বড় অন্যায় এটা যতদিন না বুঝবে এদেশের মানুষ, ততদিন হয়তো এভাবে উভয়পক্ষকেই ভুগতে হবে। কিন্তু তসলিমাকে এই শাস্তি দিয়ে কি পেলাম আমরা? তসলিমারা হয়তো শান্তি পায় না, কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তের তুলনামূলক উন্নত মানুষরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে পুরষ্কার আর স্বীকৃতি দিয়ে ভরিয়ে ফেলে। তসলিমাকে এখন পড়া হয় ইংলিশ, জার্মান, রুশ, ইতালিয়ান ও ফ্রেন্স ভাষায়। তাঁর সৃষ্টির তুলনায় তাঁর স্বীকৃতির সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এখন তাঁকে ফেমিনিস্ট বা নারীবাদী লেখক হিসেবে পড়া হয় ভার্জিনিয়া উলফ, বেগম রোকেয়াদের পরেই এই উপমহাদেশে। আর আমরা কি পেয়েছি? আমরা পেয়েছি একটি অধিকতর ধর্মান্ধ ও পুরুষতান্ত্রীক সমাজ। পেয়েছি কিছু মাথামোটা রাজনীতিবিদ ও মেরুদণ্ডহীন বুদ্ধিজীবী। আমাদের পেছনে যাবার পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে। আগে শুধু মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরা জঙ্গি হত, এখন, বুয়েট, ঢাবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরাও জঙ্গি হচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা করণের এই বন্ধ্যা রাজনীতি ও সমাজনীতি একজন লেখককে দমাতে পারলেও নিজেদের পেছনে যাবার গতি কখনও থামাতে পারবেনা।

বি: দ্রঃ স্বীকৃতি আর পুরষ্কারের লম্বা তালিকাখানা আর দিলাম না। ইচ্ছে হলে উইকিপিডিয়া থেকে দেখে নিয়েন।

তাঁর ওয়েবসাইট: http://www.taslimanasrin.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: