মির্জা রফি সওদার শের (অনুবাদ)

ফার্সি ও উর্দু ভাষার স্বনামধন্য কবি মির্জা মুহাম্মদ রফি সওদা’র জন্ম ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে, পুরোনো দিল্লির শাহজাহানাবাদে। জানা যায়, তাঁর বয়স যখন ৬০ থেকে ৬৫ বছর, তখন তিনি নবাব বাঙ্গাশের সঙ্গে ফররুখাবাদে চলে যান, এবং ১৭৫৭ থেকে ১৭৭০ সাল পর্য ন্ত সেখানেই বসবাস করেন। ১৭৭১-৭২-এর দিকে তিনি চলে যান ফৈজাবাদে অযোধ্যার নবাবের দরবারে, এবং বাকি জীবন, অর্থাৎ ১৭৮১-তে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত ওই দরবারেই ছিলেন সভাকবি হিসেবে। লাখনউকে যখন অযোধ্যা রাজ্যের রাজধানী বানানো হয়, তখন নবাব সুজাউদ্দৌল্লার সঙ্গে তিনি সেখানে যান।

কবি হিসেবে সওদা ছিলেন সমকালে গুরুস্থানীয়। স্বয়ং বাদশাহ্ শাহ আলম এবং নবাব সুজাউদ্দৌল্লা ছিলেন তাঁর শিষ্য। নবাব অাসফউদ্দৌল্লা তাঁকে ‘মালকুশ-শুয়ারা’ (কাব্যের মালিক) উপাধি দিয়ে বার্ষিক ৬০ হাজার টাকা ভাতা বরাদ্দ করেন।

সওদা প্রথমে ফার্সি ভাষাতেই কবিতা লিখতেন। পরে তাঁর ওস্তাদ (গুরু) মির্জা-এ-আরজু’র পরামর্শে উর্দু ভাষায় লিখতে শুরু করেন। নিচে তাঁর একটা উর্দু কবিতা অনুবাদ করে দেয়া হলো।] —কবি জ্যোতির্ময় নন্দী

দিল মৎ টপক নজর সে কি পায়া না যায়ে গা
জূ’ন আশক ফার জমীন সে উঠায়া না যায়ে গা।

কা’বা অগরছা টূটা তো ক্যা যায়ে গাম হ্যায় শেখ,
কুছ কসর-এ-দিল নহিঁ কা বনায়া না যায়েগা।

পুঁছে ন গয়ে ইস চমন মেঁ ন না হাম দাদাদ কো কভি,
জু’ন গুল ইয়াহ্ চাক-এ-জব সিলায়া না যায়ে গা।

আমামা কো উতারকে পঢ়িয়ো নমাজ শেখ,
সজদায়ে সে বর্না সর কো উঠায়া না যায়ে গা।

জালিম ম্যাঁয় নে কহ্ রহা হুঁ কি ইস খুন সে দর গুজার,
সওদা কা কাতিল হ্যায় ইয়াহ্ ছুপায়া না যায়ে গা।

বাংলায়:
দৃষ্টি থেকে সরে যেয়ো না, হে হৃদয়, শেষে আর খুঁজে পাওয়াই যাবে না
অশ্রু চোখ থেকে ঝরে পড়ে গেলে, তা আর তো ওঠানো যাবে না।

কাবা যদি ভেঙে পড়ে শেখ, তাতে এমন কি ক্ষতি!
সে তো মেরামত করা যাবে, ভাঙা হৃদয় তো করা যাবে না।

জিজ্ঞেস কোরো না, এ ফুলবাগানে আমি কী চেয়েছি,
যে গোলাপ জ্বলে গেছে, তাকে তো মালায় গাঁথা যাবে না।

পাগড়ি খুলে নামাজ পড়ো, হে শেখ,
না হয় সেজদা থেকে মাথা আর ওঠানো যাবে না।

হে নিষ্ঠুর, বলছি আমাকে তুমি হত্যা কোরো না,
কারণ সওদাকে খুন করে তা কখনো লুকানো যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: