বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে #Metoo আন্দোলন এবং পুরুষের ভয়

#Metoo আন্দোলনে এদেশের বেশিরভাগ পুরুষ দল ভয় থরো কম্পো। এটা তো এদেশে অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, তসলিমা নাসরীনের মাধ্যমে। তিনি তার অনেক স্টোরি বলে অনেকের মন আর মুখ দুই-ই বেজার করে দিয়েছিলেন। বেচারি একাই তখন গালি খেলো।

১৬ কোটির এ দেশের ৮ কোটি যদি নারী হয়, প্রতিজনের নূন্যতম গড়ে ৩টি করে গল্প আছে। এমন কোন নারী নেই যে জীবনে কোনদিন যৌন হয়রানীর শিকার হয়নি, সে কোটিপতি কন্যা হোক, আর মুচি কন্যাই হোক। এদেশে এই আন্দোলন এসেছে ১০-১২ দিনও হয়নি, প্রকাশিত ঘটনার সংখ্যাও ১০টি পেরোয়নি। এখনই শুরু হয়ে গেছে একশ্রেণীর পুরুষের হাহাকার। তাহলে ৮ কোটির মধ্যে যদি ৮০০ গল্পও আমরা জানি, এদের প্রতিক্রিয়া কি হবে? নারীরা নয়, আসলে পুরুষরাই এই আন্দোলন মেনিপুলেট করতে যথেষ্ট।

একে তো এদেশে সঠিক যৌন শিক্ষা নেই, তার উপর শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে পুরুষের ফ্যাসিস্ট আচরণ জন্মগত। অতএব, ভিলেন সেলিম আল দিন হোক, হুমায়ূন আজাদ হোক, কাসেম বিন আবু বক্কার হোক,যেই হোক, খুব আশ্চর্য হই না। বরং যারা সাফাই গাইতে শুরু করেছেন, তাদের দেখেই অবাক হই, এদের বড় হবার প্রক্রিয়া কেমন ছিল চিন্তা করি। চোখ বন্ধ করে কাকের মত বড় হয়েছে এরা। কোন নারীর সত্যিকারের বন্ধু হতে পেরেছে কিনা সন্দেহ, হলে হয়তো জানতে পারত, এদেশের প্রতিটি নারী কম বেশি জীবনের কোন না কোন সময় বাজে অভিজ্ঞতা পায়, এবং নিজের পরিচিতির গণ্ডি থেকেই সেটা বেশি- চাচা, মামা, খালু, ফুপা, শিক্ষক, বড় ভাই, এলাকা তো ভাই, সহকর্মী, ইত্যাদি। আর মিডিয়া হলে তো কথাই নাই। মিডিয়ার ব্যাপার ওপেন সিক্রেট।

অনেকে বলে প্রমাণ কই। আজিব লাগে শুনলে। যৌন হয়রানীর প্রমাণ তো ভিকটিম নিজেই। সব কিছুর আউটসাইড প্রমাণ থাকবে, সেটা আশা করা যায়না। সাক্ষীও থাকেনা সব ক্ষেত্রে।ভাগ্য ভাল থাকলে দু একজনের ক্ষেত্রে সাক্ষী হয়তো মেলে।

অনেকে বলে, বিচার কেন চাওয়া হয়নি? বিচার! মানুষ যেখানে বলতেই পারেনি সংকোচ, লজ্জায় সেখানে বিচার কিভাবে সে চাইবে। বলার অনুশীলন তো কেবল শুরু হল। আর কিভাবে বিচার চাইবে? এদেশে যে হারে ধর্ষণ হয়,যে যৌন হয়রানীর শাস্তি ফাঁসি হওয়া উচিৎ সেই ঘটনারই মাত্র ০.০৪ পার্সেন্ট মাত্র বিচার হয়, তাহলে একজন ভিকটিম কিভাবে বিচার আশা করতে পারে?এদেশে পুরো বিচার ব্যবস্থা ধর্ষকের পক্ষে কাজ করে।

জাতিসংঘ জরিপ অনুযায়ী এদেশে ৬০ শতাংশের বেশি নারী স্বামী কর্তৃক ধর্ষিত হয়, এরকম পরিস্থিতিতে নারীর সামাজিক নিরাপত্তা কতটা নাজুক, সহজেই অনুমেয়। ধর্ষণের চাইতে তুলনামূলক কম মাত্রার যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে নারী তাই চুপ থাকে। এখন অনেকে বলবে, তাহলে সব পুরুষই কি খারাপ? দুঃখজনক ভাবে সত্য হল, হ্যাঁ ভাই, ৯৮ ভাগ পুরুষ খারাপ এদেশে। সে হতে পারে আপনার বা আমার বাবা, স্বামী, ভাই, প্রেমিক কিংবা পরম পূজ্য কোন ব্যক্তিত্ব। এই দেশে সঠিক যৌন শিক্ষা, সম অধিকার আর সহমর্মীতা চর্চা ছাড়া সুস্থ নারী-পুরুষের সম্পর্ক অসম্ভব। এদেশের পরিবারগুলো টিকে আছে আমাদের মা-খালাদের প্রতিভা-প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের গোরস্থান হয়ে। যতদিন এসব চর্চা আরও জোরদার না হচ্ছে নারীর সামাজিক অবস্থান ততদিন পর্যন্ত এমন নাজুকই থাকবে, আর পুরুষ ততদিন এই অসুস্থ সমাজ তৈরি করে যাবে। পুরুষের উদ্দেশ্যে তাই বলবো, সুপিরিয়রটি কমপ্লেক্সে ভোগা বন্ধ করেন, সুন্দর করে প্রেম করতে শেখেন, সহনশীল হন, সব ঠিক হয়ে যাবে 😛 ডোন্ট অরি 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: