বে-নামি পত্র (অনুগল্প)

কী সম্ভোধন করব তোমায় ?

কোন নাম তো দেই নি কখনও। কোন নামই যেন মেলে না তোমার সাথে। কেমন যেন খাপছাড়া। কিছুই মিলত না আমাদের । তুমিই কি করে যেন খুঁজে খুঁজে বের করতে মিলগুলো। নামও একটা বের করে ফেললে আমার জন্য । শুনে খুব হেসেছিলাম। কী অদ্ভুদ ! থাক, বলব না আর । থাক ও নাম। কারো ঠোঁটে , কারো কানে।

জানতে চেয়েছিলে, মন খারাপ কি না ? নিরব থেকেছিলাম বরাবরের মত। জানি, এই সব নিরবতার অর্থ তোমার জানা। চুপটি করে কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিলে জানি। কি বলার ছিল , কি বলতে পারনি সেই সব বলা না-বলার অর্থ আমারও জানা। নিরবতার দৃষ্টিকাব্যগুলো কি করে যেন মিলে যেত !

আর তোমার রুটিন ঝগড়া। উফ্ , কী করে পারতে অমন পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে। ইচ্ছে করে বকা শোনা আর হেসে কুটি হওয়া ।

নাহ্ , মন খারাপ করি না আর। অনেকদিনের স্বপ্নপূরণ হচ্ছে তোমার। তবু বিষন্ন কেন তুমি ? কিছু না , কেবল শহরটাই তো বদল। সেই সাথে রোজকার আলো হাওয়া।

আমি ‍কিন্তু খুশি । হররোজ জ্বালাবেনা কেউ আর। ঝগড়া করবে না, বেসুরো গেয়ে মেজাজ খারাপ করবে না, বকা খেয়ে হেসে লুটোপুটি হবে না। কত কত জ্বালাতন থেকে বেঁচে গেলাম।
বড় বড় স্বপ্নের জন্য ছোট ছোট দুঃখ-সুখগুলো বিসর্জন দিতে হয় বৈ কি? তুমি ভালো থাকবে তো? তুমি পারলে আমিও পেরে যাব নিশ্চয়ই।
বাঁচতে শিখে গেছি তো । ঠিকই বেঁচে থাকব, দেখো।

তারপরও জানি, বইয়ের পাতায়, নিত্যকার কর্ম -কাজে , সময় -অসময়ে ঠিকই মনে পড়বে আমায়। হ্যাঁ , আত্নবিশ্বাস আছে ঠিক । আজীবন স্পষ্ট কিংবা অস্পষ্ট স্মৃতিতে ঠিকই থাকব আমি। যেমনটা তুমি থাকবে । রোজকার অত অত পাগলামির পাগলকে মনে না রেখে উপায় আছে?

তারপরও হাসিমুখে দেব বিদায়। তোমার দেয়া নামকরণ স্বার্থক করতে হবে তো? পাওয়া- না পাওয়ার দ্বিধা-যন্ত্রণা নিয়ে বাড়াবে পা স্বপ্নের শহরে? সময় সাক্ষী থাক, এই শহরে ঠিকই থাকব হাসি মুখে। করব রোজকার কাজ হাসিমুখেই, যেমনটা আগে হেসেছি ঠিক তেমনি। সূক্ষ্ প্রভেদটুকু হয়ত পাবে টের, হয়ত পাবে না।

আচ্ছা, যে স্বপ্নের দামে রোজকার বুনে তোলা হাসিটুকু বিলিন হবে, সে স্বপ্নের দামটা কী জানা হবে তোমার?
হাসি না খুশি, কী চেয়েছিলে তুমি? কী চায় মানুষ একজীবনে?

ইতি
না বলা কথা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: