সেই ছোট্ট ভবঘুরে

ওস্তাদ যেভাবে লিখেছেন, তেমন লেখা তো আর লিখতে পারব না! আমার ওস্তাদও মজেছিলেন তার রসে। সে কথা যেরকম সরসে বয়ান করেছেন, তেমনটি আর কেউ পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তাঁর বিদেহী পদযুগলে হাজারখানেক সেলাম ঠুকে আমি একটুখানি লেখার দুঃসাহস করি। ও হ্যাঁ, আমার ওস্তাদের নাম সৈয়দ মুজতবা আলী (কানে হাত)।

ছবির নাম ‘লাইমলাইট’। কাহিনী সবিস্তারে বলা ফিলিমরসিকদের রীতিবিরুদ্ধ কাজ (তেমন খ্যাপাটে দর্শক হলে তেড়ে মারতে আসে)। তবে, এ ছবিখানা আমার মতন নাদান আহাম্মুক ছাড়া রসিক লোক সবাই দেখে ফেলেছেন বলেই সন্দ করি। আমার এই উচ্ছাস দেখে মুখ টিপে বা হো হো করে হাসলেও আশ্চর্য হব না। কিন্তু সত্য কথা এই যে, ছবিখানা আমায় দেগেছে ভালরকমেই। বহু-বহু সিনেমা আমি দেখি নি। তাই দুনিয়ার বহু-বহু কলাকারের কাজ আমার অজানা। তবে এই ছোটখাট মানুষটিকে ভালবাসি বড়। রবীন্দ্রনাথের গানে আছে, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”। এই ট্রাম্প কমেডির অবতারটি দুনিয়ায় এসেছিলেন হাসিকান্নার বিমিশ্র ধারা হয়ে। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবার মধ্যেও চোখটা ঝপ করে জলে ঝাপসা হয়ে আসে।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গানটিও সকলেরই শোনা আছে বলে সন্দ হয়। চ্যাপলিনকে নিয়ে অমন গান আমি দ্বিতীয়টি শুনি নি (আবারও কানে হাত দিয়ে স্বীকার করি, গানও আমি দু-চারখানার বেশি শুনি নি)।

সেই ছোট্ট দুটো পা
ঘুরছে দুনিয়া
ছোট্ট দুটো চোখে স্বপ্নের দূরবীন
কাছে যেই আসি
মুখে ফোটে হাসি
তবু কোথায় যেন বাজে
করুণ ভায়োলিন …

এই গানে এক জায়গায় আছে ‘লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ লাভ’। এই লাভ-এর রেলগাড়িটা আসলে ওই ছবিরই একটা গানের মধ্যে আছে। সাংঘাতিক সুন্দর একটা গান। যারা কিনা দিনান্তে একবার সুইসাইড করার কথা ভাবেন, তারা দয়া করে এই গানটি একবার শুনবেন। একটা দিন অন্তত বেশি বাঁচতে ইচ্ছে হবে, আমার মুর্শিদের কসম!

একজন বিগতযশা ট্রাম্প কমেডিয়ান আর এক হতাশ ব্যালেরিনার কাহিনী ‘লাইমলাইট’। ভালবাসার গল্প। জীবনের গল্প। নিরাশার নিরন্ধ্র আন্ধারে জীবনকে ভালবেসে বাঁচার গল্প।

ভালবাসা নাও চার্লস চ্যাপলিন…
ভালবাসা ছড়াও চার্লস চ্যাপলিন
পৃথিবীর বুকে উষর মরুতে ফুল ফোটাও
চার্লস চ্যাপলিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: