গুড অার্থ সমাচার

ব্যাপারটা মন্দ না ! যাহাকে বলে বিপরীতে হীত! দু’দিন বিছানায় পড়ে থাকায় ’গুড আর্থ’টা পড়া হল । জ্বর যতটানা এই চোখ ব্যথাই কাবু করে ফেলেছে গতকাল থেকে । শেষমেষ না চশুমুদ্দিন হতে হয় ! গতকাল রাত ৯টা অব্দি পড়ে ছিলাম বিছানায় ।সহ্য হচ্ছিল না শব্দ -আলো কিছুই । চোখ ব্যথা সাথে মাথাও।পাত্তা দেই নি শুরুতে । সুযোগ পেয়ে সময় গড়াবার সাথে সাথে বেড়েছে ! ফলাফল, বেঙ্গলে শাহানা বাজপেয়ীর গান শোনা মিস ।টোনের ভিন্নতা ভালো লাগে। মন খারাপ হল খুব ।আবার কবে সময় সুযোগ হবে কে জানে!!

ভালো একটু ঘুম দিলেই ঠিক হবে ভেবে ওষুধপত্র পাত্তানা দিয়ে ঘুমোবার চেষ্টা করা গেল। তা চারদিকে এত শব্দ Sound sleep এর সুযোগ কই ? বিল্ডিং এর কন্সট্রাকশন থেকে শুরু করে পাশের বাসার রান্নাঘরের ব্লান্ডারের শব্দ , মনে হয় শব্দ করার একটা প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে চারপাশে ! এই শব্দদূষণ যে অচিরেই জাতীকে ভীষণভাবে ভোগাবে তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে । আমাদের ’গুড আর্থ’কে কী করে একটু গুড আমরা রাখব সেটাই চিন্তার বিষয় এখন।

যন্ত্রণা কমছে না । মাথাটাই ছিঁড়ে যাবে বোধ হয় ! জানা মত সব পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেল। ফেল । মরার মতন পড়ে আছি ।আগের দিন কলিগের ব্রেন স্টোকের কথা শুনেছি। একটু চিন্তা হচ্ছিল ব্যাথার তীব্রতায় ! সাথী অাপা এ্যালোভেরা দিতে বললেন – ’আরাম পাবে’। এত হাঙ্গামা করার এ্যানার্জি নাই ।আমি দু’টো ট্যাবলেট গিলে পড়ে আছি । সজলের ব্রেন শান্ত করার কিছু টিপস কাজে লাগল ‘ কোন প্রকার চিন্তা করা যাবে না’ । ‘চিন্তা ছাড়া ব্রেন থাকে কি করে ?’ প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হল । তবে কথা বলার মুড নাই । নিরবে জ্ঞান হজম করলাম।তবে এর টিপসগুলো অদ্ভুদ হলেও কাজ করে ভালো ! কিছু মানুষের জন্য মন থেকে এমনিই দোয়া চলে আসে ।সময়তে একটা ভালো পরামর্শও অনেক উপকারী। কিছু গুড ম্যান্টালিটির মানুষ টিকে আছে বলেই আর্থটা এখনও গুড । টিপসের ক্যালাণেই হোক কিংবা ওষুধের জোরে ১০টা নাগাদ মগজ মহাশয় ক্লান্ত হয়ে রণে ভঙ্গ দিল !

ব্যথা কমার পর জ্বরের অনুভুতিটা টের পাওয়া গেল! শুয়ে বসে আছি অনেকক্ষণ । কী করা যায়? বই পড়া-লেখা । মুভিও দেখা যায় কিন্তু মগজ মহাশয় এখনও একটানা শব্দ হজম করার মত চাঙ্গা হয়ে ওঠে নি ।অতএব পিডিএফে অচলায়তন পড়া যাক । আলো চোখে লাগছে খুব । ব্যথা শুরু হচ্ছে । সানগ্লাস থেরাপি কাজে দির না । জল পড়ছে । অতএব কাগজের বইই সঙ্গী । কিছুতো একটা করা চাই । ৬ ঘন্টা চুপচাপ পড়ে আছি ! লেখার চেষ্ট করলাম । বাক্য সাজনো কিংবা চিন্তা করার জন্যও ব্রেনে চাপ পড়ে । অতএব চুপচাপ পড়ি ।আম্মাকে লুকিয়ে অবশ্যই। রুমে উঁকি দিলেই সুবোধ সটান । কমপ্লিট বেড রেস্ট !( এখন যে টুকটুক করে লিখছি এটা ব্রেন কতটা সচল হল তার একটা পরীক্ষা আর কী?। মনে হয়, মগজ মহাশয় সার্ভিস শুরুর জন্য প্রস্তুত।)
.
’গুড আর্থ’ এর বর্ণনার ধরন প্রথমদিকে স্টাইনবেকের ‘দি পার্ল’ এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল সেই যে জেলে পরিবার । ওলানের কৃতদাসির জীবন স্টো’র ’আঙ্কল টমস ক্যাবিন’কে কথা মনে করায় । ওলানে নারী জীবন চিরায়তন নারীজীবনের বঞ্চনার চিত্র যেন। সেলিনা হোসেনের ’লারা ’র মাতৃরূপ , ’ কাাঁটাতারে প্রজাপতি’র নারী বঞ্চণার চিত্র মনে পড়ে ।কী কঠিন আর শক্ত সামর্থ নারীরূপ এই ওলান! ওয়ঙ- ওলানের এ ৪র্থ সন্তানের জন্ম ‘পদ্মা নদীর মাঝির’ জেলে পাড়ার জন্ম-মৃত্যাুর চিত্র মনে করায় ‘’ঈশ্বর থাকেন ঐ পাড়ায় ভদ্র পল্লীতে’ । বড় লেখকদের মহত্তে্‌র একটা জায়গা বোধ হয় অনুভুতির সার্বজনীনতা আর বিশ্বজুড়ে সমস্যার সেই চিরায়ত চিত্র ।

পাঠ যত সামনের দিকে গড়াচ্ছে পাঠকের চিন্তা তত গভীর হচ্ছে ।

ওলান- ওয়াঙ পরিবারের পরিণতি অপেক্ষায় রমজানের আগে শেষ ছুটির দিনটা কাটল বদ্ধ ঘরেই ।তবে প্রত্যাশা রইল নিজের এবং সবার জন্য সুস্থ- সুন্দর ভোরের ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ অনুসরণ

Get the latest posts delivered to your mailbox: